Skip to main content

Posts

Showing posts from August, 2021

রাজনীতি অধ্যয়নে গতানুগতিক পদ্ধতি ও আধুনিক পদ্ধতির পার্থক্য

গতানুগতিক ও আধুনিক পদ্ধতির পার্থক্য :  রাজনীতি বিশ্লেষণে গতানুগতিক ও আধুনিক পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য আলােচনা করা হলাে :   ১, রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতিগত পার্থক্য : গতানুগতিক পদ্ধতির অনুসারিগণ রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতি নির্ধারণ করেছেন রাষ্ট্র, সরকার ও সার্বভৌমত্ব ইত্যাদির নিরিখে । তাদের সংজ্ঞা ছিল খুবই সংকীর্ণ। অন্যদিকে, আধুনিক পদ্ধতির অনুসারিগণ রাজনৈতিক ক্ষমতা, কর্তত্ব, প্রভাব এবং বিরোধের প্রেক্ষাপটে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়াস করেছেন। আধুনিক সংজ্ঞায় রাজনীতির পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। সুতরাং রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতিগত দিক থেকে উভয় পদ্ধতির মধ্যে 'পার্থক্য লক্ষণীয়। ২, উদ্দেশাগত পার্থক্যঃ গতানুগতিক পদ্ধতির উদ্দেশ্য ছিল আদর্শ রাজনৈতিক জীবনের অনুসন্ধান করা। কোনটি মহৎ এবং আদর্শরূপ তাই তখন অনুসন্ধান করা হতাে। কিন্তু আধুনিক পদ্ধতির লক্ষ্য হলাে বাস্তবভিত্তিক ঘটনার উপস্থাপন। এখানে অভিজ্ঞতালব্ধ ও প্রয়োগযোগ্য তত্ত্ব গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক অনুসন্ধান কার্য পরিচালিত হয়। ৩. পদ্ধতিগত পার্থক্য : গতানুগতিক অধ্যয়ন পদ্ধতির ক্ষেত্রে পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হতাে দার্শনিক, ঐতিহাসিক, অবরােহমূলক, ত...

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব বা প্রয়ােজনীয়তা

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। সমাজবিজ্ঞানের একটি নতুন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হলেও শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন এর গুরুত্ব পৃথিবীর অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পাঠ্যবিষয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইংল্যান্ড, ভারত ও বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েও এর স্বীকৃতির পরিচয় পাওয়া। যায়। ক্রমাগত বিষয়টির গুরুত্ব বাড়ছে এবং এটি একটি একাডেমিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব : শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন একদিকে যেমন শান্তির ধারণা সম্পর্কে তথ্য দেয়। অন্যদিকে তা সংঘর্ষ বিষয়ক নানা তথ্য প্রদান করে থাকে। নিম্নে শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব আলােচনা করা হলাে : ১ . ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শান্তি স্থাপন করে : শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে শান্তির সম্পর্ক ব্যক্তিগত শান্তি, প্রতিবেশীর মধ্যে শান্তি, আন্তঃগােষ্ঠীর মধ্যে শান্তি, বৈবাহিক শান্তি, রাষ্ট্র ও সভ্যতার মধ্যে কিভাবে শান্তি অর্জন করা যায় সে সম্পর্কে আলােচনা করে। এ আলােচনা পর্যালােচনা মানবসমাজের প্রভূত উপকার সাধন করে। ২. মূল্যবােধের উপর গুরুত্ব প্রদা...

সংকট- সংগ্রাম, দুর্যোগ- দুর্বিপাকে অবিচল: এক নারীর প্রতিকৃতিঃ বঙ্গমাতা বেগম মুজিব।

১৯৩০ সালের ৮ অগাস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন ফজিলাতুন নেছা রেনু। তিন বছর বয়সে তিনি বাবা জহুরুল হক এবং পাঁচ বছর বয়সে মা হোসনে আরা বেগমকে হারান। দাদা শেখ আবুল কাশেম শৈশবেই রেনুর সঙ্গে তার চাচাতো ভাই শেখ মুজিবুর রহমানের বিয়ে দেন। শেখ মুজিবের মা সায়েরা খাতুনের স্নেহ, মায়া-মমতায় বড় হন রেনু। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি ছিল তার অদম্য আগ্রহ। প্রবল স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন তিনি। যে কারণে বঙ্গবন্ধু তাকে জীবন্ত ডায়েরির’ সঙ্গে তুলনা করতেন। সেই বালিকাবধূর স্বামী শেখ মুজিব কোনো সাধারণ বাঙালি ছিলেন না। কৈশোরে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার পর তার বাকি জীবন কেটেছে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে এবং স্বাধীনতার পর দেশ গড়ার কাজে নেতৃত্ব দিয়ে। জীবনের বড় একটি অংশ তাকে কাটাতে হয়েছে কারাগারে। বঙ্গবন্ধুর সেই সংগ্রামী জীবনে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা ছিলেন ছায়াসঙ্গী। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি সক্রিয় সহযোগিতা করেছেন, প্রেরণা দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু যখন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে, তার অবর্তমানে মামলা পরিচালনার ব্যবস্থা করা, দলকে সংগঠিত করা, আন্দোলন পরিচালনা করাসহ প্রতিটি কাজে তিনি সাহসিকতার...

অপারেশন সার্চলাইট ও গণহত্যা দিবস

একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ঠাণ্ডা মাথায় নিরস্ত্র, নিরপরাধ ও ঘুমন্ত সাধারণ বাঙালির ওপর যেভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, তা পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার নজির। ২০১৭ সাল থেকে এ দিনটি ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে। একটি জনগোষ্ঠীর স্বাধিকারের দাবিকে চিরতরে মুছে দিতে ঢাকায় চালানো ওই হত্যাযজ্ঞের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান। ২৫ মার্চ সকাল থেকেই ঢাকার পরিস্থিতি ছিল থমথমে। মুজিব-ইয়াহিয়া আলোচনা পণ্ড হয়ে গেছে- এ খবর দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ায় বীর বাঙালি ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে নেতার নির্দেশের অপেক্ষায়। বঙ্গবন্ধু বেশ কয়েকবার ঘর থেকে বেরিয়ে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টকে দেওয়া সংবিধানের খসড়ার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করা এবং অনুমোদনের জন্য সময় নির্ধারণের কথা ছিল এদিন। ইয়াহিয়ার সহযোগী জেনারেল এসজিএমএম পীরজাদা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ফোন করে জানাবেন। সারাদিন ধরেই আও...

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ (১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন - ৭১ এর অসহযোগ আন্দোলন)

৩। ১৯৫৪ সালের যুক্তফট সাধারণ নির্বাচন ও ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন   ১৯৫৪ সালে ১০ই মার্চ পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে পূর্ববঙ্গে যুক্তফ্রন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। কিন্তু পাকিস্তান শাষকগােষ্ঠী বাঙালির এই আধিপত্য মেনে নিতে পারেনি। মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে ৩০শে মে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। ১৯৫৯ সালে সমগ্র পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনের সময় নির্ধারিত হলে বাঙালিদের মধ্যে বিপুল সাড়া দেখা দেয়। জনসংখ্যার ৫৬ ভাগ বাঙালি, অতএব এই নির্বাচনের ফলাফল চিন্তা করে কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। একই সময়ে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের কৌশলে কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যেও বিরােধ সৃষ্টি করে। এই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হয়। ১৯৬২ সালে সামরিক শাসন তুলে নেয়া হ'লে ছাত্র সমাজ অধিকারের দাবিতে পুনরায় আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়।   ৪। ১৯৬২ সালের শিক্ষা সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন   আন্দোলন নতুন করে গণ-আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়। শিক্ষা সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ছাত্র মিছ...

নমুনায়ন বলতে কী বুঝ ,নমুনায়নের সুবিধা ও অসুবিধা আলােচনা কর

  নমুনায়ন : নমুনায়ন একটি প্রক্রিয়া বা পদ্ধতির নাম। এ পদ্ধতির জন্য সমগ্রক থেকে একটি নমুনা বাছাই করা হয়।   প্রামাণ্য সংজ্ঞা : নমুনায়ন সম্পর্কে বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে মতামত ব্যক্ত করেছেন। নিম্নে সে বিষয়ে আলােচনা করা হলাে :   S. P. Gupta এবং M. P. Gupta এর মতে, "Sampling is only a total which helps to know the characteristics of the universe or population by examining only a small part of it." অথাৎ, নমুনায়ন হলাে সমগ্রকের একটি পরীক্ষালব্ধ অংশমাত্র যা সমগ্রকের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে পারে। তারা নমুনায়নের সংজ্ঞায় সমগ্রক সম্পর্কে প্রতিনিধিত্বকে আলােচনায় এনেছেন। মূলত সমগ্রকের একটি উপযুক্ত প্রতিনিধি নমুনায়নের মাধ্যমে উপস্থাপন করা যায় ।   Black ও Champion এর মতে, "The process of drawing those elements from the larger population or universe is called sampling." অর্থাৎ, নমুনায়ন হলাে বৃহত্তর সমগ্রক থেকে কিছু উপাদান বাছাই করার প্রক্রিয়া।  নমুনায়ন প্রসঙ্গে Earl R. Babbie বলেছেন, “বৃহত্তর উপাদান সম্পর্কে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার লক্ষ্যে বৃহত্তর...

অনুকল্প কী? একটি উত্তম অনুকল্পের বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ

প্রকল্প/অনুকল্প/পূর্বানুমান : সমাজ গবেষণার ক্ষেত্রে কল্পনা তৈরি অতীব জরুরি। প্রত্যেক গবেষকই যখন কোন সমস্যা নির্বাচন করেন তখন সে সমস্যার ধারাবাহিকতা ধরেই গবেষকের মনে কতক বা একক কল্পনার উদ্ভব ঘটে। এ কল্পনা কখনাে প্রত্যক্ষভাবে আবার কখনাে পরােক্ষভাবে যাচাই করা হয়। সাধরণত কতক সামাজিক গবেষণায় যেখানে গবেষক সরাসরি কল্পনাটি ব্যক্ত করেই তা যাচাইয়ের জন্য গবেষণাটি পরিচালনা করে থাকেন। এ ধরনের অবস্থায় বলা যায় যে, মূলত গবেষক কল্পনাটির বৈধতা যাচাইয়ের জন্য গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। আর অনেক সামাজিক গবেষণা আছে যেখানে এ ধরনের কোন কল্পনা যাচাইয়ের কথা গবেষক পূর্বাহ্নে উল্লেখ করেন না, বরং সত্য অনুসন্ধানকারীর মত পুরাতন কোন মতামত স্বীয় চিন্তায় বদ্ধমূল না রেখে মুক্তমন নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যান এবং একটি সত্যাসত্য লাভের প্রচেষ্টা চালান। কল্পনার সরল সংজ্ঞা হচ্ছে, "A hypothesis is an assumption to be tested." অর্থাৎ, কল্পনা হচ্ছে এমন একটি ধারণা যার সত্যাসত্য যাচাই করা । প্রামাণ্য সংজ্ঞা : বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রকল্পের সংজ্ঞা বিভিন্নভাবে প্রদান করেছেন। নিম্নে সেবিষয়ে আলােচনা করা হলাে -  M...

প্রশ্নমালার সংজ্ঞা দাও, উত্তম প্রশ্নমালা তৈরিতে কি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ

 সামাজিক গবেষণায় প্রাথমিক উপাত্ত সংগ্রহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী কৌশল হচ্ছে প্রশ্নমালা। এজন্য প্রশ্নমালা পদ্ধতিকে জরিপ কার্যের আত্মা বলে অভিহিত করা হয়। সাধারণত বৃহৎ আকারের সমগ্রকের অন্তর্ভুক্ত প্রতিনিধিত্বশীল নমুনা একক থেকে উপাত্ত সংগ্রহের জন্য এ কৌশলটি অত্যন্ত উপযােগী।  প্রশ্নমালা :   সাধারণভাবে বলা যায় কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রয়ােজনীয় তথ্য বা উপাত্ত সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিষয় সংশ্লিষ্ট এবং বিষয় সম্পর্কিত কবিতার প্রশ্নের সুবিন্যস্ত লিখিত সমাহারই হলাে প্রশ্নপত্র বা প্রশ্নমালা।  'Good and Hall-এর মতে, “সাধারণভাবে প্রশ্নমালা হচ্ছে পরম ব্যবহার করে প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করার একটি কৌশল যা উত্তরদাতা নিজে পূরণ করেন।”  Bogardus-এর মতে, “প্রশ্নমালা হচ্ছে কতিপয় প্রশ্নের তালিকা যেগুলাের উত্তর দেয়ার জন্য কতিপয় ব্যক্তির নিকট প্রেরণ করা হয়।”  Kenneth D. Bailey বলেছেন, “প্রশ্নপত্র হচ্ছে কোন একটি সমস্যার বিভিন্ন বিষয় বা দিক সম্পর্কে জানার জন্য অনুমিত সকল প্রশ্নের সমন্বয়।   উইলকিনসন এবং ব্যান্ডারকার বলেন, “ফরম এর উপর সুনির্দিষ্ট ক্রম...

উপাত্ত সগ্রহের বিভিন্ন পদ্ধতি আলােচনা কর।

উপাত্ত সংগ্রহ পদ্ধতি : প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উৎস থেকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়।  এগুলাে আলােচনা করা হলাে :  প্রাথমিক উপাত্ত সংগ্রহ পদ্ধতি : অনুসন্ধানকারী অনুসন্ধান ক্ষেত্র থেকে যে উপাত্ত সংগ্রহ করেন তাকে প্রাথমিক উপাত্ত বলে। প্রাথমিক উপাত্তের উৎস বিভিন্ন প্রকার। তাই উপাত্ত সংগ্রহের সময় বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এগুলাে নিম্নে আলােচনা করা হলাে :  ১. প্রশ্নমালার মাধ্যমে : এ পদ্ধতিতে অনুসন্ধানকারী উপাত্ত সংগ্রহ করেন প্রশ্নমালা ব্যবহার করে। অনুসন্ধানকারীকে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তােলা হয়। ব্যক্তির নিকট থেকে বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। তাই প্রশ্নমালা প্রণয়নে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। যে বিষয় বা প্রপঞ্চ সম্বন্ধে উপাত্ত সংগ্রহ করা হবে তার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট থেকে প্রশ্নমালার মাধ্যমে উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। উপাত্ত সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত প্রশ্নসমূহকে একত্রে প্রশ্নমালা। (Questionnair) বলে ।   সুবিধা:   . অনুসন্ধান ক্ষেত্র ব্যাপক হলেও উপাত্ত সংগ্রহ করা যায়।  অর্থ ব্যয় কম হয়।  অনুসন্ধানকারী প্রশিক্ষণপ্রা...

রাজনীতি অধ্যয়নে গুরুতপূর্ণ গতানুগতিক পদ্ধতিসমূহ আলােচনা কর

রাজনীতি অধ্যয়নে গুরুতপূর্ণ গতানুগতিক পদ্ধতিসমূহ বা , রাজনীতি বিশ্লেষণে গতানুগতিক পদ্ধতিগুলাে গতানুগতিক পদ্ধতিসমূহ : গতানুগতিক পদ্ধতি কয়টি বা কোন কোন পদ্ধতি এর অন্তর্ভুক্ত এ নিয়ে আবার রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। নিম্নে রাজনীতি অধ্যয়নের গুরুত্বপূর্ণ গতানুগতিক পদ্ধতিসমূহ সংক্ষেপে আলােচনা করা হলাে : ১. ঐতিহাসিক পদ্ধতি : রাজনীতি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক পদ্ধতি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। ঐতিহাসিক  পদ্ধতি বলতে সংগৃহীত তথ্য বা প্রমাণের ভিত্তিতে অতীত ঘটনাবলির বিশ্লেষণ এবং সাম্প্রতিক কালের রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে সম্ভাব্য অনুসিদ্ধান্তে উপনীত হওয়াকে বুঝায়। এর সাহায্যে অতীতের ঘটনাবলিকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে রাষ্ট্র, শাসনব্যবস্থা, আইন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎস্বরূপ নির্ধারণ করা যায়। এ পদ্ধতির মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিবর্তন কিভাবে হয়েছে তা অনুসন্ধান করা যায়। তাছাড়া রাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থা ও গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানলাভ করা যায়। এজন্য অনেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ঐতিহাসিক পদ্ধতি গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন। এ পদ্ধতির সাহায্যে অতীত ও বর্...

রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়নে পরিসংখ্যানের গুরুত্ব ও সীমাবদ্ধতা আলােচনা কর।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়নে পরিসংখ্যানের গুরুত্বঃ মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে পরিসংখ্যানের ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাচীনকালে যা কেবলমাত্র রাষ্ট্রীয়কার্যে নীতি নির্ধারণে ব্যবহৃত হতাে, বর্তমানে মানবসমাজের রাজনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের ব্যবহার পরিলক্ষিত হচ্ছে। নিম্নে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গবেষণায় পরিসংখ্যানের গুরুত্ব সম্পর্কে আলােচনা করা হল । ১, মানবকল্যাণ সাধন করে পরিসংখ্যানঃ  বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা আবর্তিত হচ্ছে মানবকল্যাণকে কেন্দ্র করে। পরিসংখ্যান মানবকল্যাণের সাথে জড়িত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের প্রয়ােজনীয় পথ ও পন্থা নির্দেশ করে। পরিসংখ্যান বিদ্যমান দরিদ্র, বেকারত্ব, শিক্ষা, খাদ্য ইত্যাদি নানাবিধ বিষয় নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণা করে এবং মানবকল্যাণে এর সমস্যা সমাধানের সঠিক উপায় নির্ধারণ করে থাকে। আর এসব সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সরকার পরিসংখ্যানের সাহায্য গ্রহণ করে থাকে। ২ রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও তদারক করে পরিসংখ্যানঃ পরিসংখ্যান রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকে ব্যবহৃত হয়। রাষ্ট্রীয় কোন কর্মকাণ্ডের ...

ভাষা আন্দোলন প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ভাষা আন্দোলনঃ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে আসছিল। পাকিস্তান সরকার এ যৌক্তিক দাবির সম্পূর্ণ বিরােধিতা করে ১৯৪৮ সালেই উর্দুকে একমাত্র সরকারি ভাষা হিসেবে ঘােষণা করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রতিবাদ চলতে থাকে যা পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলন নামে পরিচিতি লাভ করে। এ আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত হয় ১৯৫২ সালে এবং সেই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে ঢাকা বিশববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ছাত্ররা একত্রিত হয়। পুলিশ এ জনসমাবেশের উপর গুলি চালানাের ফলে রফিক, সালাম, বরকত, জববারসহ আরাে অনেকে শহীদ হয়। এই ঘটনা আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রা দান করে এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব বহুমাত্রায় বাড়িয়ে দেয়। ১৯৫৬ সালে চূড়ান্তভাবে সংবিধানে বাংলাকে উর্দুর পাশাপাশি অন্যতম প্রধান জাতীয় ভাষা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ভাষা আন্দোলনকে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভাষা আন্দোলন প্রেক্ষাপট ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালে চূড়ান্ত পরি...

মহান মুক্তিযুদ্ধ যে কারণে সংগঠিত হয়েছিল!

আমাদের জাতীয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায় হলাে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। এই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্মলাভ করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। পাকিস্তান নামের রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করা হয়। ১২ আগস্ট প্রকাশিত র্যাডক্লিপ রােয়েদাদে পূর্ব বঙ্গ ও পশ্চিম বঙ্গের মধ্যে সীমানা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হলাে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট। পূর্ব বাংলা হয় পাকিস্তানের অংশ-পূর্ব পাকিস্তান। পূর্ব থেকে জনগণ আশা করেছিলেন, এবার তাঁদের আশাআকাঙ্খা পূরণ হবে। তাঁদের প্রত্যাশিত স্বাধীনতা নতুন রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হবে। উন্নত জীবনের অধিকারী হবেন। কিছুদিনের মধ্যেই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ অনুভব করলেন, তাদের প্রত্যাশা পূর্ণ হওয়ার নয়। পাকিস্তানের শাসকবর্গ বহুবাচনিক সমাজে পূর্ব পরিকল্পিত ঐক্যবদ্ধ একক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করেছে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অংশগ্রহণের ক্ষেত্র সংকুচিত করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁরা বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। এমন কি পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদে পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এভাবে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতা সংগ্রামরে পটভূমি তৈ...

আফগানিস্তান রাশিয়া যুদ্ধ পরবর্তী তালেবানের ধ্বংসযজ্ঞ ও মার্কিন সেনাদের দুই দশক

বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে আফগানদের যুদ্ধের ইতিহাস হাজার হাজার বছরের। আফগানিস্তানের প্রাগৈতিহাসিক ও ঊনবিংশ শতাব্দীর ইতিহাস জানান দেয় দেশটির রোমাঞ্চকর ও সাহসিকতার কথা। প্রথমে ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক শক্তি, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির সঙ্গে বরাবরই লড়াই করে গেছে আফগানরা। বিশ্বের সব পরাশক্তির সঙ্গে তালেবান গোষ্ঠীর লড়াইয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি ধ্বংসপ্রায়। হাজার বছরের সংকটে আফগান। আফগানিস্তানের ইতিহাস-ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। প্রাগৈতিহাসিক প্রত্নতাত্তিক স্থান খনন করে দেখা গেছে, দেশটির উত্তর অংশ অর্থাৎ আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার বছর আগে মনুষ্য বসতি ছিল। ধারণা করা হয়, আফগানিস্তানের কৃষি খামার বিশ্বের প্রাচীন খামারগুলোর একটি। আফগানিস্তানের ইতিহাসে বহু সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তন্মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো- গ্রেকো-বারট্রিয়ান, কুশান, হেফথালিটিস, কাবুল শাহী, সাফারি, সামানি, গজনবী, ঘুরি, খিলজি, কারতি, মুঘল ও সবশেষে হুতাক ও দুররানি সাম্রাজ্য। দেশটির ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, প্রাক ইসলামী শাসনামলের পূর্বে খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ সালের পর মধ্য এশিয়া থেকে এখানে লোক আসতে শুরু ...