Skip to main content

অনুকল্প কী? একটি উত্তম অনুকল্পের বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ

প্রকল্প/অনুকল্প/পূর্বানুমান : সমাজ গবেষণার ক্ষেত্রে কল্পনা তৈরি অতীব জরুরি। প্রত্যেক গবেষকই যখন কোন সমস্যা নির্বাচন করেন তখন সে সমস্যার ধারাবাহিকতা ধরেই গবেষকের মনে কতক বা একক কল্পনার উদ্ভব ঘটে। এ কল্পনা কখনাে প্রত্যক্ষভাবে আবার কখনাে পরােক্ষভাবে যাচাই করা হয়। সাধরণত কতক সামাজিক গবেষণায় যেখানে গবেষক সরাসরি কল্পনাটি ব্যক্ত করেই তা যাচাইয়ের জন্য গবেষণাটি পরিচালনা করে থাকেন। এ ধরনের অবস্থায় বলা যায় যে, মূলত গবেষক কল্পনাটির বৈধতা যাচাইয়ের জন্য গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। আর অনেক সামাজিক গবেষণা আছে যেখানে এ ধরনের কোন কল্পনা যাচাইয়ের কথা গবেষক পূর্বাহ্নে উল্লেখ করেন না, বরং সত্য অনুসন্ধানকারীর মত পুরাতন কোন মতামত স্বীয় চিন্তায় বদ্ধমূল না রেখে মুক্তমন নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যান এবং একটি সত্যাসত্য লাভের প্রচেষ্টা চালান। কল্পনার সরল সংজ্ঞা হচ্ছে, "A hypothesis is an assumption to be tested." অর্থাৎ, কল্পনা হচ্ছে এমন একটি ধারণা যার সত্যাসত্য যাচাই করা ।

প্রামাণ্য সংজ্ঞা : বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রকল্পের সংজ্ঞা বিভিন্নভাবে প্রদান করেছেন। নিম্নে সেবিষয়ে আলােচনা করা হলাে -

 McGuign (1908) প্রকল্পের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, "Hypothesis is a testable statement of a potentional empirical relationship between two or more variables." 

 যুক্তিবিদ মিল এর মতে, প্রকল্প হলাে এমন একটি আনুমানিক তথ্য, যা আমরা প্রকৃত প্রমাণ ছাড়া গ্রহণ করি অথবা অপর্যাপ্ত প্রমাণের উপর নির্ভর করে গ্রহণ করে থাকি।" 

উত্তম অনুমানের বৈশিষ্ট্য : উত্তম অনুমানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলাে নিয়ে আলােচনা করা হলাে :

 ১. ধারণাগত স্পষ্টতা : অনুমানে ব্যবহৃত ধারণাসমূহ সুস্পষ্ট এবং সকলের কাছে বােধগম্য হতে হবে। ব্যবহৃত ধারণাগুলাে অস্পষ্টতা ও দ্ব্যর্থকতা অবশ্যই পরিহার করতে হবে। এজন্য গবেষক ব্যবহৃত ধারণাগুলাের কার্যকর সংজ্ঞা প্রদান করবেন। কোন গবেষণার একাধিক অর্থ থাকলে সেক্ষেত্রে গবেষণার সাথে সংগতিপূর্ণ অর্থটি গ্রহণ করবেন। সুস্পষ্ট ধারণাসমূহের সমন্বয়ে গঠিত অনুমান সহজবােধ্য, কার্য উপযােগী ও সকলের কাছে গ্রহণযােগ্য। 

 ২, পর্যবেক্ষণযােগ্যতা : গৃহীত অনুমানকে পরীক্ষাযােগ্য ও যাচাইযােগ্য হতে হবে। এমন অনেক প্রশ্ন আছে যেগুলাের সত্যাসত্য যাচাই করা যায় না। বিশেষ করে অনুমানের বিষয় পর্যবেক্ষণযােগ্য না হলে তা পরীক্ষা ও যাচাই করা যায় না এজন্য অনুমানের বিষয়কে পর্যবেক্ষণযােগ্য হতে হয়। 

৩, বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক: অনুমান বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক হওয়া প্রয়ােজন। কেননা, বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত অনুমান বেশি গবেষণামূলক হয়। অনুরূপভাবে উত্তম অনুমান নৈতিকতার প্রশ্নের সাথে জড়িত থাকে না। কেননা, নৈতিকতার সাথে জড়িত অনুমানকে বাস্তবভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা কঠিন। 

 ৪. সংক্ষিপ্ত আকৃতি : অনুমানের আকৃতি খুব বড় আকারে হওয়া উচিত নয়। কারণ বৃহৎ আকৃতির অনুমানে বেশি ধারণা ব্যবহৃত হয়। যেগুলাের বিভিন্ন রকমের অর্থ থাকে। এর ফলে অনুমানে অহেতুক জটিলতা ও দ্ব্যর্থকতা সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য অনুমান যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত ও অর্থবােধক হওয়া বাঞ্ছনীয়। 

৫. বিষয়বস্তুর সুস্পষ্টতা : অনুমানের বিষয়বস্তুকে সহজসরল ও সুষ্পষ্ট হতে হবে। কি অনুমান করা হচ্ছে এবং কি বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা হবে এ ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। অন্যথায় অনুমান গবেষণার নির্দেশক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে না। 

৬. সম্পর্কযুক্ত পদ্ধতি : গৃহীত অনুমান যাচাই করার উপযােগী পদ্ধতি সম্পর্কে গবেষকের ধারণা থাকতে হবে। প্রয়ােজনীয় ধারণার অভাবে গবেষক সঠিক অনুমান করতে পারবেন না। পদ্ধতির সাথে সম্পর্কহীন অনুমান বাস্তবে যাচাইযােগ্য নয় এবং গ্রহণযােগ্যও নয়। 

৭. তত্ত্বভিত্তিক অনুমান : তত্ত্ব অনুমান গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনুমান যাচাই করে কোন তত্ত্ব গ্রহণ বা বাতিল করা হয় এবং নতুন তত্ত্ব নির্মিত হয়। তত্ত্ব ও অনুমানের এরূপ পারস্পরিক সম্পর্কের কারণে অনমন কোন তরে সাথে সম্পর্কযুক্ত হলে তা হবে উত্তম অনুমান। কেননা, তত্ত্বের পরিধি থেকে বিচ্ছিন্ন কোন গবেষণা অবৎ জ্ঞানের বিকাশে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে না। এজন্য অনুমান তত্ত্বনির্ভর হওয়া প্রয়ােজন। 

৮, সুনির্দিষ্ট : একটি পূর্বানুমান বা প্রকল্পের বিশ্বাসযােগ্যতা প্রমাণের জন্য এটিকে অবশ্যই অনির্দিষ্ট এ সম্পই হতে হবে এবং প্রকল্পে ব্যবহৃত ধারণাগুলাের মধ্যে নির্দিষ্টতা ও সুস্পষ্ট সম্পর্ক থাকতে হবে। 

৯, প্রমাণ সাপেক্ষ : প্রকল্প বা পূর্বানুমানের সাহায্যে যাতে সঠিক সিদ্ধান্ত উপনীত হওয়া যায় সে বায়া থাকতে হবে। আর এজন্য একটা উত্তম প্রকল্প অবশ্যই প্রমাণ সাপেক্ষ হবে। কেননা, বাস্তবতার সাথে বা কারে করে সাথে পূর্বানুমানের কোন সম্পর্ক না থাকলে সে পূর্বানুমানের কোন মূল্য থাকে না।

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

রাজনীতি অধ্যয়নে গতানুগতিক পদ্ধতি ও আধুনিক পদ্ধতির পার্থক্য

গতানুগতিক ও আধুনিক পদ্ধতির পার্থক্য :  রাজনীতি বিশ্লেষণে গতানুগতিক ও আধুনিক পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য আলােচনা করা হলাে :   ১, রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতিগত পার্থক্য : গতানুগতিক পদ্ধতির অনুসারিগণ রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতি নির্ধারণ করেছেন রাষ্ট্র, সরকার ও সার্বভৌমত্ব ইত্যাদির নিরিখে । তাদের সংজ্ঞা ছিল খুবই সংকীর্ণ। অন্যদিকে, আধুনিক পদ্ধতির অনুসারিগণ রাজনৈতিক ক্ষমতা, কর্তত্ব, প্রভাব এবং বিরোধের প্রেক্ষাপটে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়াস করেছেন। আধুনিক সংজ্ঞায় রাজনীতির পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। সুতরাং রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতিগত দিক থেকে উভয় পদ্ধতির মধ্যে 'পার্থক্য লক্ষণীয়। ২, উদ্দেশাগত পার্থক্যঃ গতানুগতিক পদ্ধতির উদ্দেশ্য ছিল আদর্শ রাজনৈতিক জীবনের অনুসন্ধান করা। কোনটি মহৎ এবং আদর্শরূপ তাই তখন অনুসন্ধান করা হতাে। কিন্তু আধুনিক পদ্ধতির লক্ষ্য হলাে বাস্তবভিত্তিক ঘটনার উপস্থাপন। এখানে অভিজ্ঞতালব্ধ ও প্রয়োগযোগ্য তত্ত্ব গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক অনুসন্ধান কার্য পরিচালিত হয়। ৩. পদ্ধতিগত পার্থক্য : গতানুগতিক অধ্যয়ন পদ্ধতির ক্ষেত্রে পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হতাে দার্শনিক, ঐতিহাসিক, অবরােহমূলক, ত...

এলিট বলতে কী বুঝ? মসকা ও প্যারেটোর এলিট তত্নের একটি তুলনামূলক আলােচনা তুলে ধর।

এলিট (Elite) : এটি শটির আভিধানিক অর্থ হলাে উৎকৃষ্ট শ্রেণির ব্যাক্তিবর্গ। সাধারণত এলিট বলতে সমাজের সেসব ব্যাক্তিবর্গকে বুঝায় যারা সমাজে এখন বিশেষ স্থান দখল করে মানসম্মান ও প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তার করে বসবাস করেন। প্রামান্য সংজ্ঞা : বিভিন্ন চিন্তাবিদ ও দার্শনিক বিভিন্নভাবে এলিটদের সংজ্ঞা প্রদান কৰোছেন। নিম্নে তাদের কতিপয় সংজ্ঞা উপস্থাপন করা হলাে। T, B Battomore এর মতে, “সমাজে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন যে কোন বৃত্তিমূলক বিশেষ করে পেশাভিত্তিক গৌষ্টিই এলিট। H,D Lasswell বলেছেন, “যে কোন সুবিধা লাভের অধিকাংশ উপভােগকারী কতিপয় ব্যক্তি এলিট, আর অবশিষ্টরা হচ্ছে সাধারণ লােক।” Robert Michels বলেছেন, “সকল রাজনৈতিক দলে নেতৃত্ব প্রদান করে কতিপয় ব্যক্তি, এ কতিপয় ব্যক্তিই হলেন এলিট। C. W. Mills , "Who decide whatever is decided if major consequence." মসকা ও প্যারেটোর এলিট তত্নের একটি তুলনামূলক আলােচনা সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষণের তত্ত্ব হিসেবে এলিট তত্ত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে এবং এ তত্ত্বের জনপ্রিয়তা উত্তরােত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষে এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে...

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব বা প্রয়ােজনীয়তা

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। সমাজবিজ্ঞানের একটি নতুন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হলেও শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন এর গুরুত্ব পৃথিবীর অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পাঠ্যবিষয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইংল্যান্ড, ভারত ও বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েও এর স্বীকৃতির পরিচয় পাওয়া। যায়। ক্রমাগত বিষয়টির গুরুত্ব বাড়ছে এবং এটি একটি একাডেমিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব : শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন একদিকে যেমন শান্তির ধারণা সম্পর্কে তথ্য দেয়। অন্যদিকে তা সংঘর্ষ বিষয়ক নানা তথ্য প্রদান করে থাকে। নিম্নে শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব আলােচনা করা হলাে : ১ . ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শান্তি স্থাপন করে : শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে শান্তির সম্পর্ক ব্যক্তিগত শান্তি, প্রতিবেশীর মধ্যে শান্তি, আন্তঃগােষ্ঠীর মধ্যে শান্তি, বৈবাহিক শান্তি, রাষ্ট্র ও সভ্যতার মধ্যে কিভাবে শান্তি অর্জন করা যায় সে সম্পর্কে আলােচনা করে। এ আলােচনা পর্যালােচনা মানবসমাজের প্রভূত উপকার সাধন করে। ২. মূল্যবােধের উপর গুরুত্ব প্রদা...