Skip to main content

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন কী?


শান্তি ও সংর্ষ অধ্যয়ন : শান্তি ও সংঘর্ষ বিষয়ের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে যুদ্ধ সংঘাত নিরসন। এগুলােকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিয়ন্ত্রণ। শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে তাত্ত্বিকদের মধ্যে মতানৈক্য পরিলক্ষিত হয়। তাত্ত্বিকগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভিন্ন ভিন্নভাবে শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।


Perry and Hinds শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন যে, “শান্তি এবং সংঘর্ষ অধ্যয়নের বিষয়বস্তু হিসেবে ব্যক্তি, গােষ্ঠী ও বিভিন্ন জাতির মধ্যকার প্রতিযােগিতা, শান্তি ও যুদ্ধের প্রকৃতি, মানব সভ্যতার যথাযথ ইতিহাস, বিভিন্ন জাতির মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা, মানবাধিকার ও মানবজাতির বিভিন্নতার প্রতি সম্মান, মানুষের ইতিবাচক মূল্যবােধ গঠনের ক্ষেত্রে পরিবেশ সৃষ্টিকরণ এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও সম্পর্কের প্রতি ইতিবাচক মূল্যবােধের এক সম্মিলিত প্রকাশ।”

অধ্যাপক মােঃ রফিকুল ইসলাম এর মতে, “শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন সামাজিক বিজ্ঞানের একটি শাখা যা শান্তি ও শান্তি সংশ্লিষ্ট তাত্ত্বিক বিষয়ের অবতারণা করে।”

জোহান গালং (Johan Gultung)
এর মতে, "Peace and conflict studies is the study of the conditions of peace work." অর্থাৎ, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন হচ্ছে শান্তি কর্ম শিক্ষণের শর্তসমূহ।


উপযুক্ত সংজ্ঞাগুলাে থেকে বলা যায় যে, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন এমন একটি কৌশল যার মাধ্যমে সংঘর্ষের মূলােৎপাটন করে শান্তি স্থাপন করা যায়। অথবা অন্যভাবেও শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন সম্পর্কে বলা যায় যে, সংঘাতময় পরিবেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে যে বিদ্যা কার্যকরী ভূমিকা রাখে সেটাই মূলত শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন।


পরিশেষে বলা যায় যে, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের মাধ্যমে পরিস্থিতির সংকুল পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রূপান্তর করা যায়। মূলত, শান্তি গবেষণা থেকে শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিদ্যার উদ্ভব বা মূলত শান্তি সমস্যায় । সংঘর্ষ বিশ্লেষণের একমাত্র মাধ্যম।

Comments

Popular posts from this blog

রাজনীতি অধ্যয়নে গতানুগতিক পদ্ধতি ও আধুনিক পদ্ধতির পার্থক্য

গতানুগতিক ও আধুনিক পদ্ধতির পার্থক্য :  রাজনীতি বিশ্লেষণে গতানুগতিক ও আধুনিক পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য আলােচনা করা হলাে :   ১, রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতিগত পার্থক্য : গতানুগতিক পদ্ধতির অনুসারিগণ রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতি নির্ধারণ করেছেন রাষ্ট্র, সরকার ও সার্বভৌমত্ব ইত্যাদির নিরিখে । তাদের সংজ্ঞা ছিল খুবই সংকীর্ণ। অন্যদিকে, আধুনিক পদ্ধতির অনুসারিগণ রাজনৈতিক ক্ষমতা, কর্তত্ব, প্রভাব এবং বিরোধের প্রেক্ষাপটে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়াস করেছেন। আধুনিক সংজ্ঞায় রাজনীতির পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। সুতরাং রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতিগত দিক থেকে উভয় পদ্ধতির মধ্যে 'পার্থক্য লক্ষণীয়। ২, উদ্দেশাগত পার্থক্যঃ গতানুগতিক পদ্ধতির উদ্দেশ্য ছিল আদর্শ রাজনৈতিক জীবনের অনুসন্ধান করা। কোনটি মহৎ এবং আদর্শরূপ তাই তখন অনুসন্ধান করা হতাে। কিন্তু আধুনিক পদ্ধতির লক্ষ্য হলাে বাস্তবভিত্তিক ঘটনার উপস্থাপন। এখানে অভিজ্ঞতালব্ধ ও প্রয়োগযোগ্য তত্ত্ব গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক অনুসন্ধান কার্য পরিচালিত হয়। ৩. পদ্ধতিগত পার্থক্য : গতানুগতিক অধ্যয়ন পদ্ধতির ক্ষেত্রে পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হতাে দার্শনিক, ঐতিহাসিক, অবরােহমূলক, ত...

এলিট বলতে কী বুঝ? মসকা ও প্যারেটোর এলিট তত্নের একটি তুলনামূলক আলােচনা তুলে ধর।

এলিট (Elite) : এটি শটির আভিধানিক অর্থ হলাে উৎকৃষ্ট শ্রেণির ব্যাক্তিবর্গ। সাধারণত এলিট বলতে সমাজের সেসব ব্যাক্তিবর্গকে বুঝায় যারা সমাজে এখন বিশেষ স্থান দখল করে মানসম্মান ও প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তার করে বসবাস করেন। প্রামান্য সংজ্ঞা : বিভিন্ন চিন্তাবিদ ও দার্শনিক বিভিন্নভাবে এলিটদের সংজ্ঞা প্রদান কৰোছেন। নিম্নে তাদের কতিপয় সংজ্ঞা উপস্থাপন করা হলাে। T, B Battomore এর মতে, “সমাজে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন যে কোন বৃত্তিমূলক বিশেষ করে পেশাভিত্তিক গৌষ্টিই এলিট। H,D Lasswell বলেছেন, “যে কোন সুবিধা লাভের অধিকাংশ উপভােগকারী কতিপয় ব্যক্তি এলিট, আর অবশিষ্টরা হচ্ছে সাধারণ লােক।” Robert Michels বলেছেন, “সকল রাজনৈতিক দলে নেতৃত্ব প্রদান করে কতিপয় ব্যক্তি, এ কতিপয় ব্যক্তিই হলেন এলিট। C. W. Mills , "Who decide whatever is decided if major consequence." মসকা ও প্যারেটোর এলিট তত্নের একটি তুলনামূলক আলােচনা সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষণের তত্ত্ব হিসেবে এলিট তত্ত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে এবং এ তত্ত্বের জনপ্রিয়তা উত্তরােত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষে এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে...

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব বা প্রয়ােজনীয়তা

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। সমাজবিজ্ঞানের একটি নতুন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হলেও শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন এর গুরুত্ব পৃথিবীর অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পাঠ্যবিষয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইংল্যান্ড, ভারত ও বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েও এর স্বীকৃতির পরিচয় পাওয়া। যায়। ক্রমাগত বিষয়টির গুরুত্ব বাড়ছে এবং এটি একটি একাডেমিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব : শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন একদিকে যেমন শান্তির ধারণা সম্পর্কে তথ্য দেয়। অন্যদিকে তা সংঘর্ষ বিষয়ক নানা তথ্য প্রদান করে থাকে। নিম্নে শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব আলােচনা করা হলাে : ১ . ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শান্তি স্থাপন করে : শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে শান্তির সম্পর্ক ব্যক্তিগত শান্তি, প্রতিবেশীর মধ্যে শান্তি, আন্তঃগােষ্ঠীর মধ্যে শান্তি, বৈবাহিক শান্তি, রাষ্ট্র ও সভ্যতার মধ্যে কিভাবে শান্তি অর্জন করা যায় সে সম্পর্কে আলােচনা করে। এ আলােচনা পর্যালােচনা মানবসমাজের প্রভূত উপকার সাধন করে। ২. মূল্যবােধের উপর গুরুত্ব প্রদা...