Skip to main content

What is neo-colonialism and Features.

নয়া উপনিবেশবাদ কি?


ইউরোপের শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে শিল্পোন্নত দেশগুলি-ইংল্যান্ড,ফ্রান্স,বেলজিয়াম,জার্মানি প্রভৃতি। উদবিত্ত শিল্প পণ্যকে বাজারে বিক্রি করার জন্য উপনিবেশ বিস্তার করে। সাম্রাজ্যবাদী নীতি অনুসরণ করে শিল্পজাত পণ্যের বাজারে সস্তাদরে উপনিবেশ থেকে বা দখলীকৃত সাম্রাজ্য থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করা ছিল এই উপনিবেশবাদ বা সাম্রাজ্যবাদ এর উদ্দেশ্য। পুঁজিপতি দেশগুলির দ্বারা দখলীকৃত সামরাজ্যগুলি নয়া সাম্রাজ্যবাদ নামে পরিচিত। অনেকে মনে করেন এই নয়া সাম্রাজ্যবাদ প্রসারের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা দাতাদের মধ্যে সর্বাধিক অগ্রগণ্য ব্যাক্তি হলেন -জে. এ.হবসন ও ভি.আই.লেনিন।

নয়া উপনিবেশবাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ


১। উপনিবেশহীন সাম্রাজ্যবাদ: অনেকে নয়া উপনিবেশবাদকে উপনিবেশহীন সাম্রাজ্যবাদ আখ্যা দিয়ে থাকেন। যদিও অতীত উপনিবেশগুলির অর্থনীতি-সহ নানা ক্ষেত্রগুলির ওপর সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বাইরে থেকে তার নিয়ন্ত্রণ কায়েম রাখে কিন্তু অতীত উপনিবেশগুলি আপাতভাবে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত থাকে।


২। বাজার অর্থনীতি: নয়া উপনিবেশবাদের একটি মূল বৈশিষ্ট্য হল বাজার অর্থনীতি (Market Economy)। বাজারি অর্থনীতিকে হাতিয়ার করে পুঁজিবাদ বর্তমান বিশ্ব অর্থব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে উদ্যত। রাশিয়া ও চিন এই দুই সমাজতান্ত্রিক দেশের হাত ধরে বাজারি অর্থনীতি প্রবর্তিত হয়। পরবর্তীকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাজারি অর্থনীতির মূল নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে।

৩। আনুষ্ঠানিকতাহীন সাম্রাজ্যবাদ: অনেকের ধারণায় নয়া উপনিবেশবাদ আনুষ্ঠানিকতাহীন সাম্রাজ্যবাদ (Informal Imperial ism) ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ এই ব্যবস্থায় সরাসরি সাম্রাজ্য স্থাপন না করে বাইরে থেকে সুকৌশলে তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র ও দুর্বল দেশগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এখানে সুকৌশল বলতে বৈদেশিক ঋণ, বৈদেশিক অনুদান, আধুনিক সমরাস্ত্র সরবরাহ এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সাহায্যদানকে বােঝানাে হয়েছে।

৪। অর্থনৈতিক অধীনতা: নয়া উপনিবেশবাদের আর-একটি বৈশিষ্ট্য হল অর্থনৈতিক অধীনতা (Economical Dependency)। ধনী বিশ্বের বহুজাতিক সংস্থাগুলি অতীত দিনের উপনিবেশগুলির আর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এগিয়ে আসে। বহুজাতিক সংস্থাগুলি মূলত তিনটি উপায়ে বহির্বিশ্বের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে, যথা- [i] মূলধনের লগ্নি। [ii] প্রযুক্তিগত কলাকৌশল সরবরাহ। [iii] পরিচালনা দক্ষতার ধারণাদান। কোনাে দেশের শিল্পক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য এই তিনটি উপাদান অপরিহার্য।


৫। সামরিক নিয়ন্ত্রণ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ন্যাটো, সিয়াটো, সেন্টো বা বাগদাদ চুক্তি, অ্যানজাস চুক্তি প্রভৃতি গঠনের মাধ্যমে বৃহৎ শক্তিধর রাষ্ট্রগুলি দুর্বল দেশগুলির ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, পশ্চিম জার্মানি, ব্রিটেন প্রভৃতি দেশগুলি নিজেদের সমরকৌশলের অঙ্গরূপে নিরাপত্তার নামে অনুন্নত দেশগুলিতে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করে।


৬। রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ: শক্তিধর রাষ্ট্রগুলি নিজেদের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে অনেক সময় দুর্বল দেশগুলিকে বিভিন্ন ধরনের সাহায্য দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে সে দেশের সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সেই সরকারকে শেষপর্যন্ত পুতুল সরকারে পরিণত করে।

Comments

Popular posts from this blog

রাজনীতি অধ্যয়নে গতানুগতিক পদ্ধতি ও আধুনিক পদ্ধতির পার্থক্য

গতানুগতিক ও আধুনিক পদ্ধতির পার্থক্য :  রাজনীতি বিশ্লেষণে গতানুগতিক ও আধুনিক পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য আলােচনা করা হলাে :   ১, রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতিগত পার্থক্য : গতানুগতিক পদ্ধতির অনুসারিগণ রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতি নির্ধারণ করেছেন রাষ্ট্র, সরকার ও সার্বভৌমত্ব ইত্যাদির নিরিখে । তাদের সংজ্ঞা ছিল খুবই সংকীর্ণ। অন্যদিকে, আধুনিক পদ্ধতির অনুসারিগণ রাজনৈতিক ক্ষমতা, কর্তত্ব, প্রভাব এবং বিরোধের প্রেক্ষাপটে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়াস করেছেন। আধুনিক সংজ্ঞায় রাজনীতির পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। সুতরাং রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতিগত দিক থেকে উভয় পদ্ধতির মধ্যে 'পার্থক্য লক্ষণীয়। ২, উদ্দেশাগত পার্থক্যঃ গতানুগতিক পদ্ধতির উদ্দেশ্য ছিল আদর্শ রাজনৈতিক জীবনের অনুসন্ধান করা। কোনটি মহৎ এবং আদর্শরূপ তাই তখন অনুসন্ধান করা হতাে। কিন্তু আধুনিক পদ্ধতির লক্ষ্য হলাে বাস্তবভিত্তিক ঘটনার উপস্থাপন। এখানে অভিজ্ঞতালব্ধ ও প্রয়োগযোগ্য তত্ত্ব গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক অনুসন্ধান কার্য পরিচালিত হয়। ৩. পদ্ধতিগত পার্থক্য : গতানুগতিক অধ্যয়ন পদ্ধতির ক্ষেত্রে পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হতাে দার্শনিক, ঐতিহাসিক, অবরােহমূলক, ত...

এলিট বলতে কী বুঝ? মসকা ও প্যারেটোর এলিট তত্নের একটি তুলনামূলক আলােচনা তুলে ধর।

এলিট (Elite) : এটি শটির আভিধানিক অর্থ হলাে উৎকৃষ্ট শ্রেণির ব্যাক্তিবর্গ। সাধারণত এলিট বলতে সমাজের সেসব ব্যাক্তিবর্গকে বুঝায় যারা সমাজে এখন বিশেষ স্থান দখল করে মানসম্মান ও প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তার করে বসবাস করেন। প্রামান্য সংজ্ঞা : বিভিন্ন চিন্তাবিদ ও দার্শনিক বিভিন্নভাবে এলিটদের সংজ্ঞা প্রদান কৰোছেন। নিম্নে তাদের কতিপয় সংজ্ঞা উপস্থাপন করা হলাে। T, B Battomore এর মতে, “সমাজে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন যে কোন বৃত্তিমূলক বিশেষ করে পেশাভিত্তিক গৌষ্টিই এলিট। H,D Lasswell বলেছেন, “যে কোন সুবিধা লাভের অধিকাংশ উপভােগকারী কতিপয় ব্যক্তি এলিট, আর অবশিষ্টরা হচ্ছে সাধারণ লােক।” Robert Michels বলেছেন, “সকল রাজনৈতিক দলে নেতৃত্ব প্রদান করে কতিপয় ব্যক্তি, এ কতিপয় ব্যক্তিই হলেন এলিট। C. W. Mills , "Who decide whatever is decided if major consequence." মসকা ও প্যারেটোর এলিট তত্নের একটি তুলনামূলক আলােচনা সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষণের তত্ত্ব হিসেবে এলিট তত্ত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে এবং এ তত্ত্বের জনপ্রিয়তা উত্তরােত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষে এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে...

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব বা প্রয়ােজনীয়তা

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। সমাজবিজ্ঞানের একটি নতুন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হলেও শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন এর গুরুত্ব পৃথিবীর অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পাঠ্যবিষয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইংল্যান্ড, ভারত ও বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েও এর স্বীকৃতির পরিচয় পাওয়া। যায়। ক্রমাগত বিষয়টির গুরুত্ব বাড়ছে এবং এটি একটি একাডেমিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব : শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন একদিকে যেমন শান্তির ধারণা সম্পর্কে তথ্য দেয়। অন্যদিকে তা সংঘর্ষ বিষয়ক নানা তথ্য প্রদান করে থাকে। নিম্নে শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব আলােচনা করা হলাে : ১ . ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শান্তি স্থাপন করে : শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে শান্তির সম্পর্ক ব্যক্তিগত শান্তি, প্রতিবেশীর মধ্যে শান্তি, আন্তঃগােষ্ঠীর মধ্যে শান্তি, বৈবাহিক শান্তি, রাষ্ট্র ও সভ্যতার মধ্যে কিভাবে শান্তি অর্জন করা যায় সে সম্পর্কে আলােচনা করে। এ আলােচনা পর্যালােচনা মানবসমাজের প্রভূত উপকার সাধন করে। ২. মূল্যবােধের উপর গুরুত্ব প্রদা...