Skip to main content

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে শান্তির ধারণা কী?

ধর্মীয় বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রায়শই মানবজীবনের যাবতীয় সমস্যাসহ অন্য ব্যক্তির সাথে পরস্পর বিপরীতমুখী চন্তা ভাবনাকে চিহ্নিত ও পরিচিত ঘটানাের সুযােগ বা ক্ষেত্র তৈরি করা হয়। কেউ শান্তি প্রত্যাশা করলে তাকে মানব পরিবেশ, প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে হবে। কেননা, শান্তি ও স্রষ্টার সৃষ্টির মাঝে সম্পর্ক রয়েছে। ইহুদি ও খ্রিস্টানগণ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন যে, একমাত্র ঈশ্বরের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সান্নিধ্য স্থাপনের মধ্যেই প্রকৃত শান্তি নাহত। খ্রিস্টানরা দাবি দরেন যে, যিশুখ্রিস্ট পৃথিবীতে ‘ঈশ্বরের শান্তির রাজ্য প্রতিষ্ঠা করবেন, যেখানে ব্যক্তি, সামজ ও সকল সৃষ্টি শয়তানের আতওতামুক্ত থাকবে। এই ঈশ্বরের রাজ্যে মানুষ প্রবেশ করবে এবং শান্তিতে বসবাস করবে। এই শান্তির রাজ্যে যিশুখ্রিস্টের সাথে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হবে।



জাতিগত সংঘাত কী?

শান্তি আন্দোলন কী?

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন কী?

Second Track Diplomacy' কী ?


বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে যে, কেবলমাত্র সকল প্রকার কষ্ট, দুঃখদুর্দশা শেষে শান্তি লাভ করা সম্ভব। সকল ধরনের কষ্টকে তারা শান্তি লাভের অন্যতম উপায় হিসেবে মনে করে। বৌদ্ধ দার্শনিক মতবাদ চার মহৎ সত্য বা গুণাবলি’র উপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে এ ধর্মের অনুসারীদের চার মহৎ গুণাবলির দর্শন ধারণের শিক্ষা গ্রহণের কথা বলা। হয়েছে। এই চার মহান সত্য বা গুণ হচ্ছে : ১. দুঃখের প্রকৃতি, ২. দুঃখের উৎপত্তি বা কারণ, ৩. দুঃখের সমাপ্তি বা বিরতি এবং ৪. দুঃখ থেকে মুক্তির পথ বা উপায়।

বৌদ্ধধর্ম দর্শন অনুযায়ী দুঃখের প্রকৃতি, কারণ ও এর সমাপ্তি সম্পর্কে যদি জ্ঞান লাভ করা যায় তবেই এ থেকে মুক্তি লাভের উপায়ও জানা যাবে। আর দুঃখ থেকে মুক্তি আসলেই শান্তি অর্জন সম্ভব। “দুঃখ থেকে পরিত্রাণ লাভ কর ও শান্তি লাভ কর”-এটি বৌদ্ধদের দার্শনিক মতবাদের চারটি মহৎ গুণাবলির অন্যতম একটি হিসেবে স্বীকৃত।




ইসলামে শান্তির ধারণা একটি মৌলিক বিষয়। ইসলামের মূলভিত্তি গড়ে উঠছে শান্তির উপর ভিত্তি করে। তবে ইসলামে শান্তির প্রসঙ্গ আসলেই ব্যক্তির মনের প্রশান্তির বিষয়টি মুখ্য হয়ে উঠে। কেননা ব্যক্তির মনে শান্তি স্থাপিত হলেই কেবল পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি স্থাপিত হতে পারে। ব্যক্তির জীবন থেকে শুরু করে বিশ্ব শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলাম কাজ করে। ইসলাম বিশ্বাস করে যে, শুধুমাত্র ইসলামী আদর্শ ও নীতিমালা বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়েই সকল ক্ষেত্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। ইসলাম হচ্ছে শান্তির বাহক, শান্তিই ইসলামের মূল লক্ষ্য। মহান আল্লাহ তায়ালা সর্বশেষ নবী হযরত মুহম্মদ (স) এর মাধ্যমে মানবজাতির নিকট শান্তির বার্তা পৌঁছে দেন। তাই রাসূল (স) হচ্ছে বিশ্ব শান্তির দূত।




রাসূল (স) ঘােষণা দেন, “সেই প্রকৃত মুসলমান, যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মুসলমান হেফাজত থাকে। কাজেই বলা যায়, ইসলাম মানে শান্তি ও সমর্পণ। এটি আল্লাহর নিকট নিজেকে সমর্পণ করাকে বুঝায়। ইসলাম শান্তির ধারণা সৃষ্টিকর্তার প্রতি আত্মসমর্পণের মধ্যে নিহিত। ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার নিকট আত্মসমর্পণের মাধ্যমে তার সকল বিধানকে পুঙ্খনাপুঙ্খভাবে মেনে বক্তিগত, সমষ্টিগত, রাষ্ট্রীয়, বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা অর্জন করা। পবিত্র আল কুরআনে বলা হয়েছে, “তােমরা সমগ্র বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা কর, পরকালে তােমাদের শান্তিময় অনন্ত জীবন দেয়া হবে।”

Comments

Popular posts from this blog

রাজনীতি অধ্যয়নে গতানুগতিক পদ্ধতি ও আধুনিক পদ্ধতির পার্থক্য

গতানুগতিক ও আধুনিক পদ্ধতির পার্থক্য :  রাজনীতি বিশ্লেষণে গতানুগতিক ও আধুনিক পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য আলােচনা করা হলাে :   ১, রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতিগত পার্থক্য : গতানুগতিক পদ্ধতির অনুসারিগণ রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতি নির্ধারণ করেছেন রাষ্ট্র, সরকার ও সার্বভৌমত্ব ইত্যাদির নিরিখে । তাদের সংজ্ঞা ছিল খুবই সংকীর্ণ। অন্যদিকে, আধুনিক পদ্ধতির অনুসারিগণ রাজনৈতিক ক্ষমতা, কর্তত্ব, প্রভাব এবং বিরোধের প্রেক্ষাপটে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়াস করেছেন। আধুনিক সংজ্ঞায় রাজনীতির পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। সুতরাং রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতিগত দিক থেকে উভয় পদ্ধতির মধ্যে 'পার্থক্য লক্ষণীয়। ২, উদ্দেশাগত পার্থক্যঃ গতানুগতিক পদ্ধতির উদ্দেশ্য ছিল আদর্শ রাজনৈতিক জীবনের অনুসন্ধান করা। কোনটি মহৎ এবং আদর্শরূপ তাই তখন অনুসন্ধান করা হতাে। কিন্তু আধুনিক পদ্ধতির লক্ষ্য হলাে বাস্তবভিত্তিক ঘটনার উপস্থাপন। এখানে অভিজ্ঞতালব্ধ ও প্রয়োগযোগ্য তত্ত্ব গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক অনুসন্ধান কার্য পরিচালিত হয়। ৩. পদ্ধতিগত পার্থক্য : গতানুগতিক অধ্যয়ন পদ্ধতির ক্ষেত্রে পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হতাে দার্শনিক, ঐতিহাসিক, অবরােহমূলক, ত...

এলিট বলতে কী বুঝ? মসকা ও প্যারেটোর এলিট তত্নের একটি তুলনামূলক আলােচনা তুলে ধর।

এলিট (Elite) : এটি শটির আভিধানিক অর্থ হলাে উৎকৃষ্ট শ্রেণির ব্যাক্তিবর্গ। সাধারণত এলিট বলতে সমাজের সেসব ব্যাক্তিবর্গকে বুঝায় যারা সমাজে এখন বিশেষ স্থান দখল করে মানসম্মান ও প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তার করে বসবাস করেন। প্রামান্য সংজ্ঞা : বিভিন্ন চিন্তাবিদ ও দার্শনিক বিভিন্নভাবে এলিটদের সংজ্ঞা প্রদান কৰোছেন। নিম্নে তাদের কতিপয় সংজ্ঞা উপস্থাপন করা হলাে। T, B Battomore এর মতে, “সমাজে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন যে কোন বৃত্তিমূলক বিশেষ করে পেশাভিত্তিক গৌষ্টিই এলিট। H,D Lasswell বলেছেন, “যে কোন সুবিধা লাভের অধিকাংশ উপভােগকারী কতিপয় ব্যক্তি এলিট, আর অবশিষ্টরা হচ্ছে সাধারণ লােক।” Robert Michels বলেছেন, “সকল রাজনৈতিক দলে নেতৃত্ব প্রদান করে কতিপয় ব্যক্তি, এ কতিপয় ব্যক্তিই হলেন এলিট। C. W. Mills , "Who decide whatever is decided if major consequence." মসকা ও প্যারেটোর এলিট তত্নের একটি তুলনামূলক আলােচনা সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষণের তত্ত্ব হিসেবে এলিট তত্ত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে এবং এ তত্ত্বের জনপ্রিয়তা উত্তরােত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষে এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে...

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব বা প্রয়ােজনীয়তা

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। সমাজবিজ্ঞানের একটি নতুন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হলেও শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন এর গুরুত্ব পৃথিবীর অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পাঠ্যবিষয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইংল্যান্ড, ভারত ও বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েও এর স্বীকৃতির পরিচয় পাওয়া। যায়। ক্রমাগত বিষয়টির গুরুত্ব বাড়ছে এবং এটি একটি একাডেমিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব : শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন একদিকে যেমন শান্তির ধারণা সম্পর্কে তথ্য দেয়। অন্যদিকে তা সংঘর্ষ বিষয়ক নানা তথ্য প্রদান করে থাকে। নিম্নে শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব আলােচনা করা হলাে : ১ . ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শান্তি স্থাপন করে : শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে শান্তির সম্পর্ক ব্যক্তিগত শান্তি, প্রতিবেশীর মধ্যে শান্তি, আন্তঃগােষ্ঠীর মধ্যে শান্তি, বৈবাহিক শান্তি, রাষ্ট্র ও সভ্যতার মধ্যে কিভাবে শান্তি অর্জন করা যায় সে সম্পর্কে আলােচনা করে। এ আলােচনা পর্যালােচনা মানবসমাজের প্রভূত উপকার সাধন করে। ২. মূল্যবােধের উপর গুরুত্ব প্রদা...