Skip to main content

বাংলাদেশ সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের গুরুত্ব লিখ

বাংলাদেশ সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের গুরুত্ব ।

Importance of the Fundamental Rights Stated in the Constitution of Bangladesh

বাংলাদেশে সংবিধানে নাগরিকের যে সকল মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত হয়েছে সেগুলাে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে মৌলিক অধিকারের গুরুত্ব আলােচনা করা হলাে :

আরো পড়ুন ১৯৭২ সালের সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারসমূহ।

প্রথমত, মৌলিক অধিকার নাগরিকদের সচেতন করে তােলে। এর ফলে নাগরিক জীবনের সকল অনিশ্চয়তা দূরীভূত হয়।

দ্বিতীয়ত, মৌলিক অধিকার সংবিধানে উল্লেখ থাকায় সরকার নাগরিক অধিকার খর্ব করে স্বেচ্ছাচারী বা স্বৈরাচারী হতে পারে না। এর ফলে শাসক ও শাসিতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সৃষ্টি হয়।

তৃতীয়ত, সংবিধানে মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত থাকায় এগুলাের কার্যকারিতা নিশ্চিত হয়। অর্থাৎ মৌলিক অধিকারসমূহ শাসনতান্ত্রিক আইনে পরিণত হয়।

চতুর্থত, মৌলিক অধিকার ভােগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করে। এর ফলে রাষ্ট্রের কল্যাণ হয়।

পঞ্চমত, মৌলিক অধিকার সংবিধানে উল্লেখ থাকার ফলে সরকারের প্রকৃতি অনুভব করা যায়।

যষ্ঠত, মৌলিক অধিকার নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায় যা জাতীয় অগ্রগতির জন্য অত্যাবশ্যক।

সপ্তমত, মৌলিক অধিকারের সংরক্ষণ রাষ্ট্রের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যের প্রতি আলােকপাত করে। এটা থাকার অর্থই হলাে রাষ্ট্র ব্যাক্তির জন্য। অর্থাৎ ব্যক্তির জন্যই রাষ্ট্রের অস্তিত্ব।

পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলাদেশ সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকারসমূহ নাগরিকদের জীবন বিকাশের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা বিধান করে । মৌলিক অধিকার শাসক ও শাসিতের সুসম্পর্ক সৃষ্টি করে, নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে, ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায়। কাজেই প্রত্যেক রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংবিধানে সন্নিবেশিত থাকা প্রয়োজন।

Comments

Popular posts from this blog

রাজনীতি অধ্যয়নে গতানুগতিক পদ্ধতি ও আধুনিক পদ্ধতির পার্থক্য

গতানুগতিক ও আধুনিক পদ্ধতির পার্থক্য :  রাজনীতি বিশ্লেষণে গতানুগতিক ও আধুনিক পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য আলােচনা করা হলাে :   ১, রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতিগত পার্থক্য : গতানুগতিক পদ্ধতির অনুসারিগণ রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতি নির্ধারণ করেছেন রাষ্ট্র, সরকার ও সার্বভৌমত্ব ইত্যাদির নিরিখে । তাদের সংজ্ঞা ছিল খুবই সংকীর্ণ। অন্যদিকে, আধুনিক পদ্ধতির অনুসারিগণ রাজনৈতিক ক্ষমতা, কর্তত্ব, প্রভাব এবং বিরোধের প্রেক্ষাপটে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়াস করেছেন। আধুনিক সংজ্ঞায় রাজনীতির পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। সুতরাং রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতিগত দিক থেকে উভয় পদ্ধতির মধ্যে 'পার্থক্য লক্ষণীয়। ২, উদ্দেশাগত পার্থক্যঃ গতানুগতিক পদ্ধতির উদ্দেশ্য ছিল আদর্শ রাজনৈতিক জীবনের অনুসন্ধান করা। কোনটি মহৎ এবং আদর্শরূপ তাই তখন অনুসন্ধান করা হতাে। কিন্তু আধুনিক পদ্ধতির লক্ষ্য হলাে বাস্তবভিত্তিক ঘটনার উপস্থাপন। এখানে অভিজ্ঞতালব্ধ ও প্রয়োগযোগ্য তত্ত্ব গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক অনুসন্ধান কার্য পরিচালিত হয়। ৩. পদ্ধতিগত পার্থক্য : গতানুগতিক অধ্যয়ন পদ্ধতির ক্ষেত্রে পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হতাে দার্শনিক, ঐতিহাসিক, অবরােহমূলক, ত...

এলিট বলতে কী বুঝ? মসকা ও প্যারেটোর এলিট তত্নের একটি তুলনামূলক আলােচনা তুলে ধর।

এলিট (Elite) : এটি শটির আভিধানিক অর্থ হলাে উৎকৃষ্ট শ্রেণির ব্যাক্তিবর্গ। সাধারণত এলিট বলতে সমাজের সেসব ব্যাক্তিবর্গকে বুঝায় যারা সমাজে এখন বিশেষ স্থান দখল করে মানসম্মান ও প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তার করে বসবাস করেন। প্রামান্য সংজ্ঞা : বিভিন্ন চিন্তাবিদ ও দার্শনিক বিভিন্নভাবে এলিটদের সংজ্ঞা প্রদান কৰোছেন। নিম্নে তাদের কতিপয় সংজ্ঞা উপস্থাপন করা হলাে। T, B Battomore এর মতে, “সমাজে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন যে কোন বৃত্তিমূলক বিশেষ করে পেশাভিত্তিক গৌষ্টিই এলিট। H,D Lasswell বলেছেন, “যে কোন সুবিধা লাভের অধিকাংশ উপভােগকারী কতিপয় ব্যক্তি এলিট, আর অবশিষ্টরা হচ্ছে সাধারণ লােক।” Robert Michels বলেছেন, “সকল রাজনৈতিক দলে নেতৃত্ব প্রদান করে কতিপয় ব্যক্তি, এ কতিপয় ব্যক্তিই হলেন এলিট। C. W. Mills , "Who decide whatever is decided if major consequence." মসকা ও প্যারেটোর এলিট তত্নের একটি তুলনামূলক আলােচনা সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষণের তত্ত্ব হিসেবে এলিট তত্ত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে এবং এ তত্ত্বের জনপ্রিয়তা উত্তরােত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষে এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে...

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব বা প্রয়ােজনীয়তা

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। সমাজবিজ্ঞানের একটি নতুন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হলেও শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন এর গুরুত্ব পৃথিবীর অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পাঠ্যবিষয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইংল্যান্ড, ভারত ও বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েও এর স্বীকৃতির পরিচয় পাওয়া। যায়। ক্রমাগত বিষয়টির গুরুত্ব বাড়ছে এবং এটি একটি একাডেমিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব : শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন একদিকে যেমন শান্তির ধারণা সম্পর্কে তথ্য দেয়। অন্যদিকে তা সংঘর্ষ বিষয়ক নানা তথ্য প্রদান করে থাকে। নিম্নে শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব আলােচনা করা হলাে : ১ . ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শান্তি স্থাপন করে : শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে শান্তির সম্পর্ক ব্যক্তিগত শান্তি, প্রতিবেশীর মধ্যে শান্তি, আন্তঃগােষ্ঠীর মধ্যে শান্তি, বৈবাহিক শান্তি, রাষ্ট্র ও সভ্যতার মধ্যে কিভাবে শান্তি অর্জন করা যায় সে সম্পর্কে আলােচনা করে। এ আলােচনা পর্যালােচনা মানবসমাজের প্রভূত উপকার সাধন করে। ২. মূল্যবােধের উপর গুরুত্ব প্রদা...