Skip to main content

রাজনৈতিক উন্নয়ন কী একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া?

রাজনৈতিক উন্নয়ন কী একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও। অথবী, রাজনৈতিক উন্নয়ন কোন এক বিষয় নয় এটি একটি সামগ্রিক ধারণী।”




রাজনৈতিক উন্নয়ন একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া : রাজনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টি কোন একক বিষয় নয়, এটি বিভিন্ন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত। আর এ সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে রাজনীতি সম্পর্কে বিভিন্ন লেখক, বিশেষজ্ঞ ও । রবিজ্ঞানীদের বিভিন্নমুখী চিন্তাচেতনা থেকে। নিমে কতিপয় রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর রাজনীতি সম্পর্কিত ধারণা তুলে ধরা হলাে।

১. লুসিয়াল পাইয়েয় ধারণা ; লুসিয়ান পাই রাজনৈতিক উন্নয়নকে যেসথ মাত্রিকতার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করেছেন তা নিম্নে তুলে ধরা হলাে :

ক, রাজনৈতিক উন্নয়ন ঘটার পূর্বশর্ত হলাে অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
খ. শিল্পায়িত সমাজের সমত্র রাজনীতি হলাে অর্থনৈতিক উন্নয়ন। 
গ, রাজনৈতিক উন্নয়ন হলাে রাজনৈতিক আধুনিকীকরণের নির্দেক; 
ঘ, রাজনৈতিক উন্নয়ন অর্থনৈতিক জাতিভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন; 
ঙ. রাজনৈতিক উন্নয়ন বলতে জনগণের সংগঠিত সক্রিয়তা ও অংশগ্রহণ বুঝায়ঃ
চ, রাজনৈতিক উন্নয়ন প্রশাসনিক ও আইনগত উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত;
ছ,. রাজনৈতিক উন্নয়ন হলাে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাকরণ;
জ, রাজনৈতিক উন্নয়ন হলাে স্থিতিশীল ও সুশৃঙ্খল পরিবর্তন
ঝ,. রাজনৈতিক উন্নয়ন রাজনৈতিক ব্যবস্থার সত্রিমাতা ও শক্তি সাম্যের সমন্বয়।

২. অ্যালমন্ড এর ধারণা ; অ্যালমন্ড রাজনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া এভাবে প্রমাণ করেছেন ।

ক. স্বতন্ত্রীকরণ : স্বতন্ত্রীকরণ চারটি লক্ষ্যের সাথে জড়িত । চরটি লক্ষ্য হলাে :

১. রাজনৈতিক কাঠামাের বিশেষীকরণ;

২. বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কাঠামাের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে হবে; ৩. প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান ও কাঠামাের সাথে সুষ্ঠু সমন্বয় ঘটাতে হবে;

৪, রাজনৈতিক সংস্কৃতি সংস্কারের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান হারে বাস্তবভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসারতা ঘটাতে হবে।

খ, সাম্যতা : সাম্যতা অর্জনের সাথে রাজনৈতিক উন্নয়ন সম্পৃক্ত। আর রাজনৈতিক উন্নয়ন তখন পূর্ণতা পায় যখন গম্যতা অর্জনের জন্য নিম্নের বিষয়গুলাে অর্জিত হয়

১. রাজনীতিতে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ;

২. রাষ্ট্রীয় সকল সুযােগ সুবিধা ও বিধিবিধান নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব সকলের জন্য সমান করতে হবে; ,

৩, রাজনৈতিক পদে নিয়ােগ কার্যসম্পাদনে অর্জনমূলক মানের প্রতিফলন ঘটাতে হবে । গ, দক্ষতা : রাজনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টি দক্ষতার সাথেও জড়িত। আর এ দক্ষতা ঘটে নিম্নোক্ত বিষয়গুলাের মাধ্যমে

১, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য যে সম্পর্ক ও সমর্থন প্রয়ােজন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ থেকে তা নিষ্কাষণের ক্ষমতা ও দক্ষতা থাকতে হবে।

২. রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বসবাসরত জনগােষ্ঠীকে দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৩, সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করতে হবে।

৪, রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনগােষ্ঠীকে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, একহাতা ও দেশপ্রেম দেখাতে হবে। সেজন্য দক্ষ | নেতৃত্ব গড়ে উঠা আবশ্যক।

৩, মার্কবাণী বিশ্লেষণ : মার্কসবাদীরা রাজনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে যে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের পাঁচটি বিষয় 'লে ধরছেন। এ পাঁচটি পর্যায়ের সাথে রাজনৈতিক উন্নয়ন জড়িত। যথা :

ক, প্রাচীন সাম্যবাদী সমাজ

খ, দাসপ্রথা বা দাস সমাজব্যবস্থার অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে;

গ, সাম্যবাদী সমাজের অর্থনৈতিক ক্ষেত্র; *

ঘ, পুঁজিবাদী সমাজের অর্থনৈতিক ক্ষেত্র;

ঙ, সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক ক্ষেত্র।

৪, অর্গাঙ্কি এর মতবাদ ; অর্গানস্কির বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Stage Political Development' - এ নৈতিক নয়নের ধারণার সাথে চারটি বিষয়কে একত্রিত করেছেন। যথা :

ক. Establishment of national integration. অর্থাৎ, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠাকরণ;

খ. Welfare system. অর্থাৎ, প্রবর্তন করা;

গ, Ensure government help to industrial sector,

ঘ, 'To achivement of resources.

Comments

Popular posts from this blog

রাজনীতি অধ্যয়নে গতানুগতিক পদ্ধতি ও আধুনিক পদ্ধতির পার্থক্য

গতানুগতিক ও আধুনিক পদ্ধতির পার্থক্য :  রাজনীতি বিশ্লেষণে গতানুগতিক ও আধুনিক পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য আলােচনা করা হলাে :   ১, রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতিগত পার্থক্য : গতানুগতিক পদ্ধতির অনুসারিগণ রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতি নির্ধারণ করেছেন রাষ্ট্র, সরকার ও সার্বভৌমত্ব ইত্যাদির নিরিখে । তাদের সংজ্ঞা ছিল খুবই সংকীর্ণ। অন্যদিকে, আধুনিক পদ্ধতির অনুসারিগণ রাজনৈতিক ক্ষমতা, কর্তত্ব, প্রভাব এবং বিরোধের প্রেক্ষাপটে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়াস করেছেন। আধুনিক সংজ্ঞায় রাজনীতির পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। সুতরাং রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতিগত দিক থেকে উভয় পদ্ধতির মধ্যে 'পার্থক্য লক্ষণীয়। ২, উদ্দেশাগত পার্থক্যঃ গতানুগতিক পদ্ধতির উদ্দেশ্য ছিল আদর্শ রাজনৈতিক জীবনের অনুসন্ধান করা। কোনটি মহৎ এবং আদর্শরূপ তাই তখন অনুসন্ধান করা হতাে। কিন্তু আধুনিক পদ্ধতির লক্ষ্য হলাে বাস্তবভিত্তিক ঘটনার উপস্থাপন। এখানে অভিজ্ঞতালব্ধ ও প্রয়োগযোগ্য তত্ত্ব গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক অনুসন্ধান কার্য পরিচালিত হয়। ৩. পদ্ধতিগত পার্থক্য : গতানুগতিক অধ্যয়ন পদ্ধতির ক্ষেত্রে পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হতাে দার্শনিক, ঐতিহাসিক, অবরােহমূলক, ত...

এলিট বলতে কী বুঝ? মসকা ও প্যারেটোর এলিট তত্নের একটি তুলনামূলক আলােচনা তুলে ধর।

এলিট (Elite) : এটি শটির আভিধানিক অর্থ হলাে উৎকৃষ্ট শ্রেণির ব্যাক্তিবর্গ। সাধারণত এলিট বলতে সমাজের সেসব ব্যাক্তিবর্গকে বুঝায় যারা সমাজে এখন বিশেষ স্থান দখল করে মানসম্মান ও প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তার করে বসবাস করেন। প্রামান্য সংজ্ঞা : বিভিন্ন চিন্তাবিদ ও দার্শনিক বিভিন্নভাবে এলিটদের সংজ্ঞা প্রদান কৰোছেন। নিম্নে তাদের কতিপয় সংজ্ঞা উপস্থাপন করা হলাে। T, B Battomore এর মতে, “সমাজে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন যে কোন বৃত্তিমূলক বিশেষ করে পেশাভিত্তিক গৌষ্টিই এলিট। H,D Lasswell বলেছেন, “যে কোন সুবিধা লাভের অধিকাংশ উপভােগকারী কতিপয় ব্যক্তি এলিট, আর অবশিষ্টরা হচ্ছে সাধারণ লােক।” Robert Michels বলেছেন, “সকল রাজনৈতিক দলে নেতৃত্ব প্রদান করে কতিপয় ব্যক্তি, এ কতিপয় ব্যক্তিই হলেন এলিট। C. W. Mills , "Who decide whatever is decided if major consequence." মসকা ও প্যারেটোর এলিট তত্নের একটি তুলনামূলক আলােচনা সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষণের তত্ত্ব হিসেবে এলিট তত্ত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে এবং এ তত্ত্বের জনপ্রিয়তা উত্তরােত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষে এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে...

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব বা প্রয়ােজনীয়তা

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। সমাজবিজ্ঞানের একটি নতুন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হলেও শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন এর গুরুত্ব পৃথিবীর অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পাঠ্যবিষয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইংল্যান্ড, ভারত ও বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েও এর স্বীকৃতির পরিচয় পাওয়া। যায়। ক্রমাগত বিষয়টির গুরুত্ব বাড়ছে এবং এটি একটি একাডেমিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব : শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন একদিকে যেমন শান্তির ধারণা সম্পর্কে তথ্য দেয়। অন্যদিকে তা সংঘর্ষ বিষয়ক নানা তথ্য প্রদান করে থাকে। নিম্নে শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব আলােচনা করা হলাে : ১ . ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শান্তি স্থাপন করে : শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে শান্তির সম্পর্ক ব্যক্তিগত শান্তি, প্রতিবেশীর মধ্যে শান্তি, আন্তঃগােষ্ঠীর মধ্যে শান্তি, বৈবাহিক শান্তি, রাষ্ট্র ও সভ্যতার মধ্যে কিভাবে শান্তি অর্জন করা যায় সে সম্পর্কে আলােচনা করে। এ আলােচনা পর্যালােচনা মানবসমাজের প্রভূত উপকার সাধন করে। ২. মূল্যবােধের উপর গুরুত্ব প্রদা...