Skip to main content

গাণিতিক গড়ের সুবিধা-অসুবিধা বর্ণনা কর

গাণিতিক গড়ের সুবিধা-অসুবিধা বর্ণনা কর

ভূমিকা : সামজিক পরিসংখ্যানে অন্য যে কোন গড়ের চেয়ে গাণিতিক গড়ের ব্যবহার অধিক পরিলক্ষিত হয়। সমাজস্থ উপাত্তগুলােকে সংগ্রহের পর উপাত্তের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশ্লেষণের জন্য এবং কেন্দ্রীয় প্রবণতা পরিমাপের। ক্ষেত্রে একটি আদর্শ পরিমাপক হিসেবে গাণিতিক গড়ের প্রয়ােজনীয়তা অপরিসীম।







গাণিতিক গড় ব্যবহারের সুবিধা : গাণিতিক গড় ব্যবহারের সুবিধা নিয়ে আলােচনা করা হলাে : 
১. এ গড় সহজবােধ্য। সাধারণ ধারণা থাকলেই গাণিতিক গড় বুঝা যায়। 
২সঠিক মান নির্দেশ করে। 
৩. সহজে নির্ণয় করা যায়। 
৪. প্রতিটি রাশি গণনা করে এ গড় বের করা হয় বলে সমগ্র তথ্যরাশির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। 
৫ বীজগণিতের নিময়গুলাে খুব সহজে প্রয়ােগ করা যায়। 
৬ সংগৃহীত রাশিমালাকে সারণিতে সাজানাের প্রয়ােজন হয় না। 
৭. দুই বা ততােধিক রাশিমালার বৈশিষ্ট্যের সাথে তুলনা করা যায়। 
৮, নমুনা বিচ্যুতি দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয় না। 
৯. প্রতিটি তথ্যকে এর আপেক্ষিক প্রাধান্য অনুসারে গুরুত্ব দেয়া যায়। 
১০. তথ্যসমূহের অবিন্যস্ত অবস্থা থেকেও গাণিতিক গড় বের করা যায়। 

গাণিতিক গড় ব্যবহারের অসুবিধা : গাণিতিক গড় ব্যবহারের অসুবিধা নিয়ে আলােচনা করা হলাে : 
১. প্রতিনিধিত্বমূলক নয়। তথ্যরাশির প্রান্তিক মান খুব বেশি, ঘােট অথবা বড় হলে গড়ের উপর তার প্রভাব পড়ে। 
২. রাশি তথ্যমালার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে খুব শীঘ্র যােজিত গড়ের মান নির্ণয় করা সম্ভব হয় না।
 ৩. এ গড় অবস্থান লেখচিত্রের মাধ্যমে দেখানাে যায় না।
৪. এ গড় অনেক সময় ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি করে ।
 ৫. মুক্তসীমা শ্রেণিব্যাপ্তি সংবলিত গণসংখ্যা নিবেশন থেকে এ গড় নির্ণয় করা যায় না। 
৬. গুণবাচক তথ্যের ক্ষেত্রে গাণিতিক গড় নির্ণয় করা যায় না।। 
৭. গাণিতিক গড় অবস্থান সম্পর্কিত ফলাফল দিতে পারে না। 
৮. এটি এমন একটি মান দেয়, যা ঐ নিবেশনে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

উপসংহার : সুতরাং বলা যায় যে, বােধগম্যতা; সর্বক্ষেত্রে ব্যবহার উপযোগিতা, প্রতিনিধিতশীলতা, কম প্রভাবিত। হওয়া নির্ণয়ে অন্যান্য পরিমাপকের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক। 

Comments

Popular posts from this blog

রাজনীতি অধ্যয়নে গতানুগতিক পদ্ধতি ও আধুনিক পদ্ধতির পার্থক্য

গতানুগতিক ও আধুনিক পদ্ধতির পার্থক্য :  রাজনীতি বিশ্লেষণে গতানুগতিক ও আধুনিক পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য আলােচনা করা হলাে :   ১, রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতিগত পার্থক্য : গতানুগতিক পদ্ধতির অনুসারিগণ রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতি নির্ধারণ করেছেন রাষ্ট্র, সরকার ও সার্বভৌমত্ব ইত্যাদির নিরিখে । তাদের সংজ্ঞা ছিল খুবই সংকীর্ণ। অন্যদিকে, আধুনিক পদ্ধতির অনুসারিগণ রাজনৈতিক ক্ষমতা, কর্তত্ব, প্রভাব এবং বিরোধের প্রেক্ষাপটে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়াস করেছেন। আধুনিক সংজ্ঞায় রাজনীতির পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। সুতরাং রাজনীতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতিগত দিক থেকে উভয় পদ্ধতির মধ্যে 'পার্থক্য লক্ষণীয়। ২, উদ্দেশাগত পার্থক্যঃ গতানুগতিক পদ্ধতির উদ্দেশ্য ছিল আদর্শ রাজনৈতিক জীবনের অনুসন্ধান করা। কোনটি মহৎ এবং আদর্শরূপ তাই তখন অনুসন্ধান করা হতাে। কিন্তু আধুনিক পদ্ধতির লক্ষ্য হলাে বাস্তবভিত্তিক ঘটনার উপস্থাপন। এখানে অভিজ্ঞতালব্ধ ও প্রয়োগযোগ্য তত্ত্ব গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক অনুসন্ধান কার্য পরিচালিত হয়। ৩. পদ্ধতিগত পার্থক্য : গতানুগতিক অধ্যয়ন পদ্ধতির ক্ষেত্রে পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হতাে দার্শনিক, ঐতিহাসিক, অবরােহমূলক, ত...

এলিট বলতে কী বুঝ? মসকা ও প্যারেটোর এলিট তত্নের একটি তুলনামূলক আলােচনা তুলে ধর।

এলিট (Elite) : এটি শটির আভিধানিক অর্থ হলাে উৎকৃষ্ট শ্রেণির ব্যাক্তিবর্গ। সাধারণত এলিট বলতে সমাজের সেসব ব্যাক্তিবর্গকে বুঝায় যারা সমাজে এখন বিশেষ স্থান দখল করে মানসম্মান ও প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তার করে বসবাস করেন। প্রামান্য সংজ্ঞা : বিভিন্ন চিন্তাবিদ ও দার্শনিক বিভিন্নভাবে এলিটদের সংজ্ঞা প্রদান কৰোছেন। নিম্নে তাদের কতিপয় সংজ্ঞা উপস্থাপন করা হলাে। T, B Battomore এর মতে, “সমাজে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন যে কোন বৃত্তিমূলক বিশেষ করে পেশাভিত্তিক গৌষ্টিই এলিট। H,D Lasswell বলেছেন, “যে কোন সুবিধা লাভের অধিকাংশ উপভােগকারী কতিপয় ব্যক্তি এলিট, আর অবশিষ্টরা হচ্ছে সাধারণ লােক।” Robert Michels বলেছেন, “সকল রাজনৈতিক দলে নেতৃত্ব প্রদান করে কতিপয় ব্যক্তি, এ কতিপয় ব্যক্তিই হলেন এলিট। C. W. Mills , "Who decide whatever is decided if major consequence." মসকা ও প্যারেটোর এলিট তত্নের একটি তুলনামূলক আলােচনা সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষণের তত্ত্ব হিসেবে এলিট তত্ত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে এবং এ তত্ত্বের জনপ্রিয়তা উত্তরােত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষে এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে...

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব বা প্রয়ােজনীয়তা

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। সমাজবিজ্ঞানের একটি নতুন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হলেও শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন এর গুরুত্ব পৃথিবীর অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পাঠ্যবিষয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইংল্যান্ড, ভারত ও বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েও এর স্বীকৃতির পরিচয় পাওয়া। যায়। ক্রমাগত বিষয়টির গুরুত্ব বাড়ছে এবং এটি একটি একাডেমিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব : শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন একদিকে যেমন শান্তির ধারণা সম্পর্কে তথ্য দেয়। অন্যদিকে তা সংঘর্ষ বিষয়ক নানা তথ্য প্রদান করে থাকে। নিম্নে শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের গুরুত্ব আলােচনা করা হলাে : ১ . ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শান্তি স্থাপন করে : শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে শান্তির সম্পর্ক ব্যক্তিগত শান্তি, প্রতিবেশীর মধ্যে শান্তি, আন্তঃগােষ্ঠীর মধ্যে শান্তি, বৈবাহিক শান্তি, রাষ্ট্র ও সভ্যতার মধ্যে কিভাবে শান্তি অর্জন করা যায় সে সম্পর্কে আলােচনা করে। এ আলােচনা পর্যালােচনা মানবসমাজের প্রভূত উপকার সাধন করে। ২. মূল্যবােধের উপর গুরুত্ব প্রদা...